Responsive Ad Slot

Hot Games

Startup

Trends

Tech

সাইকোপ্যাথি

Thursday, May 12, 2016

পার্থ বাবু চোখ খুললেন। প্রায় চার
ঘণ্টা পর জ্ঞান ফিরল তার। তিনি এক
ফ্ল্যাট এর মেঝেতে পরে ছিলেন
এতক্ষণ ধরে। চোখ খলার পরই তিনি
বুঝতে তে পারলেন যে তার মাথার
পেছন দিকটা ব্যাথায় ফেটে
story, গল্প
পরছে,সাথে এটাও বুঝতে বাকি রইলনা
যে তাকে কোনও কিছু দিয়ে আঘাত
করা হয়েছে মাথায় ।
 লক্ষ করলেন তার
জামা কাপড় ভেজা। বাইরে থেকে
বৃষ্টির শব্দ বাকি অন্য শব্দ গুলো কে
কানে তার ঢুকতে দিচ্ছে না।
জানলার দিকে তাকালেন তিনি,
বুঝলেন যে মোটামুটি তিনি চার
তালায় তো আছেনই। অথচ ঘরের ভেতর
টা তাঁর কাছে বেশ অপরিচিত। ঘড়ে
খালি একটা জিরো পাওয়ার এর বাল্ব
জ্বলতে থাকায় ভেতরের পরিবেশ টা
বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি।
ইতিমধ্যেই তাঁর বুক কাঁপতে শুরু করে
দিয়েছে। তিনি আগের ঘটনা মনে
করার চেষ্টা করলেন। নাহ! কিছুতেই
মনে পরছেনা!
যাইহোক আগে ঘরের লাইট জ্বলানো
দরকার। তিনি উঠে দাঁড়ালেন। তার
মাথা ফেটে গেছে। ঊফফ কী অসহ্য
যন্ত্রণা! লাইট জ্বালানোর আশা
নিয়ে তিনি অন্ধকারের মধ্যেই সুইচ
বোর্ড এর উদ্দেশ্যে লক্ষভ্রষ্টদের মত
এদিক ওদিক হাতড়াতে শুরু করলেন।
হটাতই তার পায়ের নীচে তরল পিচ্ছিল
কিছু একটা পড়ায় তিনি নিজের
ভারসাম্য আর রাখতে পারলেন না।
উল্টে পরলেন ঠিক কিছু একটার ওপরে।
একমিনিট এটা তো একটা মানুষ এর
শরীর মনে হচ্ছে! লোকটা কি অজ্ঞান ?
নাকি মারা গেছে? নাহ! এটা একটা
মহিলার দেহ! গোঁটা গা ভেজা! সম্ভবত
রক্ত! নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি
মহিলাটিকে জাগানোর চেষ্টা
করলেন! বৃথা চেষ্টা! হঠাৎই পার্থ বাবুর
নিজের বুক পকেট এ থাকা মোবাইল এর
কথা মনে পোড়ে গেল।'ওঁটাতেও তো
টর্চ রয়েছে। যাক ভালো সময়য়েই
মনে পরেছে।' পার্থ বাবু মনে মনে
ভাব্লেন। নিজের পকেট থেকে
মোবাইলটা বের করলেন টর্চ জালিয়ে
তিনি যা দেখলেন তা পার্থ বাবুর
কাছে নরকের সবচেয়ে ভয়াবহ জিনিস
এর ভয়াবহ মনে হল! তাঁর সামনে যে দেহ
টা পরেছিল সেটা কে নির্মম ভাবে
খুন করা হয়েছে। মাথা তে বারবার
কিছু দিয়ে আঘাত করার ফলে মাথা
পুরপুরি থেঁতো হয়ে গেছে আর গোঁটা
শরীর জুড়ে একাধিক চাকুর দাগ স্পষ্ট।
কি ভয়াবহ! এটা কোনও মানুষের কাজ
ভেবেই তার শরীর শিউরে উঠল। সত্যি
যে বা যারা তাকে খুন করেছে তার
সাথে পশুর কোনও তফাৎ নেই। তিনি
আবার পুরো ঘটনা মনে করার চেষ্টা
করলেন, কিন্তু কিছুই তার মনে পরছেনা।
হঠাৎ দরজা খলার একটা আওয়াজ এল।
পার্থ বাবু ভয়ে দমরে গেলে। তার গা
হাত পা কাঁপতে শুরু করলো। কে এলো?
এটা সেই খুনিটা না
তো? এবার কি তবে তার পালা?
তাকে কি তাকেও নির্মম ভাবে শেষ
অবধি মরতে হবে? না তিনি এত
তারাতারি মরতে চাননা। পার্থ বাবু
টর্চ এর আলোতে উঠে দারালেন আর
লুকনোর জাইয়গা খুঁজতে আরম্ভ করলেন।
শেষ অব্ধি তিনি আর জায়গা না
পেয়ে খাটের তলে লুকলেন আর
মোবাইল এর আলো বন্ধ করে দিলেন।
ঘরের লাইট জ্বলে উঠল। খাটের তল
থেকে তিনি গোঁটা ঘড়ের মেঝেতে
খালি রক্তের বন্যাই দেখতে পেলেন।
তার জামা কাপড় আব্ধি রক্তে
মাখামাখি। ঘড়ে দুটো মানুষ এর প্রবেশ
ঘটল, পা গুলতে দুইজনএরই কালো সুট আর
কালো সু। তারা নিজেদের মধ্যে কথা
বলতে শুরু করলো...
-লোকটা গেলো কথায়?
-যেখানেই যাক এখনও বেশি দুর যেতে
পারেনি হয়তো
-হ্যাঁ ঠিক! যেভাবেই হোক ওকে
পালাটে দেয়া
যাবেনা।
-আমাদের এখনি বেরিয়ে পড়া উচিৎ
লোকটাকে ধরতে হলে
-চলুন বেড়িয়ে পড়া যাক
এরপর দরজা বন্ধের আওয়াজ পার্থ বাবুর
কানে এলো। এর পর আর বুঝতে অসুবিধা
হল না যে খুনটা তারাই করেছে।
তিনি কোনও ভাবে বেচে গাছেন
এটা জেনে তারা আবার এসেছিলো
তাকে মারতে।নাহ! এই জায়গা টা
তার মতেও ভালো ঠেকছেনা।নাহ!
এবার তাকে পালাতেই হবে। বাচার
উদ্দেশে, নিরাপদ আশ্রয় এর উদ্দেশে!
পার্থ বাবু সোজা পুলিশ স্টেশন
জাওয়ার পরিকল্পনা করলে। খাট এর
নিচ থেকে বেরনোর সময় খাটের
কোনার সাথে মাথায় আবার বড়ি
খেলেন। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিলো
যেন পৃথিবীর সমস্ত দুঃখ তার কপালে
এসেই আজকের দিনে জমা হয়েছে!
এদিকে মাথা দিয়ে আগের চেয়ে
বেশি রক্ত বইছে। শেষ অবধি লাইট
জালানোর পর পার্থ বাবু কাপড় খুঁজতে
লাগলেন মাথাই বাধবেন বলে। কিন্তু
শেষ অবধি কিছু খুজে না পাওয়ায়
সামনে থাকা এক গামছা ছিরে
মাঠায় বাধলেন। নাহ! দেরি করা
যাবেনা আর। বেড়িয়ে পরলেন দরজা
খুলে। নীচে নেমে ফ্ল্যাট থেকে
বেরনো মাত্রই বৃষ্টি আরও বেড়ে
গেলো। এর চেয়ে আর কি বা খারাপ
হওয়া বাকি আছে?
বৃষ্টি বরাবর ই পছন্দ পার্থ বাবুর, কিন্তু
আজ যেন বৃষ্টি টা তার কাছে বিরক্তি
লাগছিল। তিন ঘণ্টা ধরে ক্রমাগত বৃষ্টি
চলার কারনে পথ ঘাটে হাঁটু অবধি জল।
যদিও এটা কলকাতার রাস্তায় নতুন
কোনও ব্যাপার না। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই
হাঁটু জল এ তিনি হেঁটে চললেন। চরা
সুরে জল পরার আওয়াজ এর সাথে সাথে
মেঘ এর ডাক যেন রাত বারোটার
নিস্তব্ধতা কে কোনরকম গুরুত্ব
দিচ্ছিলনা।রাত এর
কলকাতা কে আগে তিনি কোনদিনও
এভাবে দেখেননি।তখনি পার্থ বাবু
বুঝতে পারলেন তিনি রাস্তা ভুল করে
অন্য রাস্তায় চলে এসেছেন। কি হচ্ছে
আজ এসব তার সাথে। উফ আর পারা যায়
না। হতাৎ তার মাথায় একটা চিন্তার
উদ্বেগ হল। আচ্ছা পার্থ বাবু পুলিশ
স্টেসন এ গিয়ে বলবেন টা কি? তার
তো নিজের নাম অভধি মনে নেই! আর
তা বাদ এও তিনি দুই খুনির চেহারাও
দেখতে পাননি! তবে! এবার? কি
করবেন এবার!
"হ্যান্ডআপ" পেছন থেকে শব্দ এলো।
পার্থ বাবু বুজলেন যে এবার আর তার
নিস্তার নেই। তিনি আস্তে করে
পেছন ঘুরলেন, হ্যাঁ! তিনি ঠিক যেমন
ভেবেছিলেন তাই! ঐ দুটো লোক
যাদের কালো প্যান্ট কালো জুতো।
বৃষ্টি থেমে গেছে ইতিমধ্যেই। তবে
তার ভেজা চূল থেকে বৃষ্টির জল মুখ এর
ওপর এখনো গড়িয়ে পড়ছেই! বৃষ্টি থেমে
জাওয়ায়
নিস্তব্ধতা এখন চারিদিকে
বিরাজমান। পার্থ বাবুর শরীর আবার
কাঁপতে শুরু কারেদিয়েছে। "পালানর
চেষ্টা বৃথা । তাই ভুল করেও পালানোর
চেষ্টা করবেননা ।তাহলে কিন্তু
আপনারি ঊল্টো ক্ষতি হতে.........।'
কথাটি শেষ না হতেই তাদের কিছু
বুঝে ওঠার আগে পার্থ বাবু দুম করে তার
বলিষ্ঠ শরীর দিয়ে এক ধাক্কায় দুজন কে
ম্যানহোলএর পাশে জমা জল এর ওপর
ফেলে দিলেন। অবশেষ এ বাচার
তিনি আরও একখানা সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি দৌরতে শুরু করলেন। যে করেই
হোক তাকে পালাতে হবেই। হঠাৎ ই
তারচেয়েও একটা দ্রুতগতি সম্পন্ন বস্তু
তার গায়ের পাশ দিয়ে চলে গেল।
বুলেট!!!!!! দ্বিতীয় গুলিটা মোটেই
লক্ষ্যভ্রষ্ট হোলো না। সোজা এসে
লাগলো তার বাঁ কাঁধে। "নাহ! তাকে
কোনও ভাবে বাচতেই হবে। এত মূল্যবান
প্রাণটি তিনি এতো সহজে হারাতে
দিতে পারেননা " তিনি মনে মনে
ভাবলেন।
হাতে লাগা গুলির পাশবিক যন্ত্রণা
কে গ্রাহ্য করে তিনি ছুটতে লাগলেন
রাস্তায় জমে থাকা জলের ওপর দিয়ে।
কিন্তু বেশিক্ষণ দৌড়াতে পারলেনা!
অনেকটা রক্ত শরীর থেকে বেড়িয়ে
গাছে ইতিমধ্যেই আর তার কারনেই
তিনি এখন দুর্বল। হঠাৎ তার সামনের
একটি বাড়ি খুব চেনা মনে হল। এটাই
একমাত্র উপাই এখন তার কাছে। যে
করেই হোক তাকে বাচতে হবে।

Latest

Blog Archive

Hit Me