নেত্রকোনা জেলা
বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা
নেত্রকোনা জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক এলাকা।
বাংলাদেশে নেত্রকোনা জেল অবস্থান
স্থানাঙ্ক:
২৪°৫৩′উত্তর ৯০°৪৪′পূর্ব / ২৪.৮৮° উত্তর ৯০.
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগ ময়মনসিংহ বিভাগ
আয়তন
• মোট ২৮১০.২৮ কিমি ২ (১০৮৫.০৬ ব
জনসংখ্যা (২০১১)
• মোট ২২,২৯,৪৬৪
• ঘনত্ব ৭৯০/কিমি ২ (২১০০/বর্গমাই
স্বাক্ষরতার হার
• মোট ৩৪.৯৪%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬ )
ইতিহাস
খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে এ অঞ্চল গুপ্ত সম্রাটগণের অধীন ছিল। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গুপ্তযুগে সমুদ্রগুপ্তের অধীনস্থ এ অঞ্চলসহ পশ্চিম ময়মনসিংহ কামরূপ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুরাজ শশাংকের আমন্ত্রণে চৈনিক পরিব্রাজক হিউ এন সাঙ যখন কামরূপ অঞ্চলে আসেন, তখন পর্যন্ত নারায়ণ বংশীয় ব্রাহ্মণ কুমার ভাস্কর বর্মণ কর্তৃক কামরূপ রাজ্য পরিচালিত ছিল। খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে পূর্ব ময়মনসিংহের উত্তরাংশে পাহার মুল্লুকে বৈশ্যগারো ও দুর্গাগারো তাদের মনগড়া রাজত্ব পরিচালনা করতো। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ দিকে জনৈক মুসলিম শাসক পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চল আক্রমণ করে অল্প কিছুদিনের জন্য মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে জিতারা নামক একজন সন্ন্যাসী কামরূপের তৎকালীন রাজধানী ভাটী অঞ্চল আক্রমণ ও দখল করেন। সে সময় পর্যন্তও মুসলিম শাসক ও অধিবাসী স্থায়ীভাবে অত্রাঞ্চলে অবস্থান ও শাসন করতে পারেনি। খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে (১৪৯৩-১৫১৯) সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চল মুসলিম রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত হয়।
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ’র পুত্র নসরৎ শাহ’র শাসনামলে (১৫১৯-১৫৩২) দু'একবার বিদ্রোহ সংঘটিত হলেও বিদ্রোহীরা সফল হয়নি। সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চলেই নসরৎ শাহ’র শাসন বলবৎ ছিল। নসরৎ শাহ-র উত্তরাধিকারীরা (১৫৩৩-১৮৩৮) কিংবা তার পরবর্তী লক্ষ্মণাবতীর অন্য শাসকেরা ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপর আধিপত্য বজায় রাখতে পারেনি। ময়মনসিংহের উত্তরাংশ কোচদের পুনরাধীন হয়ে পড়ে। বাকী অংশ দিল্লীর পাঠান সুলতান শেরশাহ-র (১৫৩৯-১৫৪৫) শাসনভুক্ত হয়েছিল। তৎপুত্র সেলিম শাহ’র শাসনের সময়টি (১৫৪৫-১৫৫৩) ছিল বিদ্রোহ ও অস্থিরতায় পূর্ণ। রাজধানী দিল্লী থেকে অনেক দূরে ও কেন্দ্রীয় রাজশক্তির দূর্বলতার সুযোগে প্রধান রাজস্ব সচিব দেওয়ান সুলায়মান খাঁ (যিনি পূর্বে কালিদাস গজদানী নামে পরিচিত ছিলেন) সম্রাটের বিরুদ্ধাচরণ করেন। এতে করে দেশী ও বিদেশী রাজ্যলিপ্সুরা এতদঞ্চল দখলের প্রয়াস পায়। এর মধ্যে ভাটী অঞ্চল (পূর্ব-উত্তরাংশ) সোলায়মান খাঁ-র দখলভুক্ত ছিল। কেন্দ্রীয় শাসকের প্রেরিত সৈন্যদের হাতে সোলায়মান খাঁ নিহত হলেও তার দু’পুত্রের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্র ঈশা খাঁ খিজিরপুর থেকে ভাটী অঞ্চলে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে ঈশা খাঁ’র মৃত্যুর পর তৎপুত্র মুসা খাঁ ও আফগান সেনা খাজা উসমান খাঁ কর্তৃক অত্রাঞ্চল শাসিত ছিল। সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে (১৬০৫-১৬২৭) সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চল মোঘল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়। [১][২]
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮০ খিস্টাব্দে হওয়া নেত্রকোণা মহকুমাকে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলা করা হয়।
প্রশাসনিক বিন্যাস
নেত্রকোনা জেলা ১০টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত; এগুলো হলোঃ
আটপাড়া ,
কলমাকান্দা,
কেন্দুয়া ,
খালিয়াজুড়ি ,
দুর্গাপুর ,
নেত্রকোনা সদর ,
পূর্বধলা ,
বারহাট্টা,
মদন এবং
মোহনগঞ্জ ।
শিক্ষা
শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৪.৯%; পুরুষ ৩৭.৯%, মহিলা ৩১.৯%। কলেজ ২৮, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৩৬, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১০৮৩, মাদ্রাসা ১৬০। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: কেন্দুয়া জয়হরি পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৩২), নেত্রকোনা দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮৯), বিরিশিরি পিসিনল উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯২), বিরিশিরি মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯৯), নেত্রকোনা চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০৯), বড়ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১১), সান্দিকোনা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১২), আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৪), বারহাট্টা সিকেপি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৪), আশুজিয়া জে.এন.সি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (১৯১৬), পূর্বধলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৬), নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৮), এস.কে.পি.এস উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৮), ঘাগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৯), বেখৈর হাটি এন.কে. উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২২), ধর্মরায় রামধন উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩০), গোপালাশ্রম ভৈরবচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩০), মোহনগঞ্জ সরকারি পাইলট হাইস্কুল (১৯৩১), বাউসী অর্ধচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৯), বানিয়াজান সিটি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪০), কলমাকান্দা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪২), গুজিরকোনা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৬), জাহাঙ্গীরপুর তহুরা আমিন হাই স্কুল (১৯৪৬), শালদিঘা জি.জি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৫৪), কুতুবপুর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৪), খালিয়াজুরী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৭), দুর্গাপুর এন্ট্রেন্স স্কুল (১৮৭৯), তেলিগাতি বি এন এইচ কে একাডেমি (১৯০৫), উপেন্দ্র বিদ্যাপীঠ (১৯১৩-১৪), মঙ্গলসিদ্ধ এম এস জুনিয়র স্কুল (১৯২৫)।
কৃষি
প্রধান শস্য
ধান, পাট, গম
অর্থনীতি
রপ্তানী পণ্য
মাছ, চামড়া, ডিম।
যোগাযোগ
রেল পথ ৪১ মাইল
সড়ক পথপাকা সড়কঃ ৫৬৬ কিঃ মিঃ, কাচা সড়কঃ ১৬৬০ কিঃ মিঃ
নদী পথ ২০০মাইল (প্রায়)
বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব
কাহ্নপাদ ( দ্বাদশ শতক) - চর্যাপদের চুরাশিজন বৌদ্ধ মহাসিদ্ধদের একজন;
মনসুর বয়াতি (আনু. ১৮ শতক) - পল্লিকবি ও গায়ক;
জ্ঞানচন্দ্র মজুমদার (১৮৮৯ - ৩ অক্টোবর ১৯৭০ ) - ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব, অগ্নিযুগের বিপ্লবী এবং
অনুশীলন সমিতির অন্যতম শীর্ষনায়ক;
চন্দ্রকুমার দে (১৮৮৯ - ১৯৪৬ ) - লেখক ও লোকগল্প, লোকগীতি গবেষক ও সংগ্রাহক;
জালাল উদ্দিন খাঁ (১৮৯৪ - ১৯৭২) - বিশিষ্ট বাউল কবি ও গায়ক;
কমরেড মণি সিংহ (২৮ জুলাই ১৯০১ -
৩১ ডিসেম্বর ১৯৯০ ) - প্রখ্যাত বামপন্থী রাজনীতিবিদ ;
রশিমনি হাজং (১৯০৮ - ৩১ জানুয়ারি
১৯৪৬ ) - টঙ্ক আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী নেত্রী;
যাদুমনি হাজং (বিশ শতক) - টঙ্ক আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী কর্মী;
খালেকদাদ চৌধুরী (২ ফেব্রুয়ারি ১৯০৭ - ১৬ অক্টোবর ১৯৮৫) - খ্যাতিমান প্রাবন্ধিক, গল্পকার, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক;
গোলাম সামদানী কোরায়শী (৫ এপ্রিল, ১৯২৯ - ১১ অক্টোবর, ১৯৯১) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট সহিত্যিক, গবেষক ও অনুবাদক;
বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ (জন্মঃ ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩০) - প্রখ্যাত আইনবিদ ও ৬ষ্ঠ প্রধান বিচারপতি এবং দু'বার দায়িত্বপালনকারী রাষ্ট্রপতি ;
যতীন সরকার (জন্মঃ ১৯৩৬) - প্রগতিবাদী চিন্তাবিদ ও লেখক;
কর্নেল তাহের (১৪ নভেম্বর ১৯৩৮ - ২১ জুলাই ১৯৭৬) - মুক্তিযোদ্ধা, ১১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং
বামপন্থী বিপ্লবী নেতা;
কবি নির্মলেন্দু গুণ (জন্মঃ ২১ জুন ১৯৪৫) - প্রখ্যাত কবি এবং চিত্রশিল্পী;
কবি হেলাল হাফিজ (জন্মঃ ৭ অক্টোবর ১৯৪৮ ) - জনপ্রিয় আধুনিক কবি;
হুমায়ুন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ - ১৯ জুলাই ২০১২) - জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক;
মুহম্মদ জাফর ইকবাল (জন্মঃ ২৩ ডিসেম্বর ১৯৫২) - লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ;
আহসান হাবীব (কার্টুনিস্ট) - জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট, রম্য সাহিত্যিক ও একজন কমিক বুক রাইটার; [৩]
বারী সিদ্দিকী - সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বাঁশি বাদক। [৪]
চিত্তাকর্ষক স্থান
উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী -
বিরিশিরি , দুর্গাপুর উপজেলা ;
বিজয়পুরের চিনামাটির পাহাড় -
দুর্গাপুর উপজেলা ;
কমলা রাণীর দিঘী;
কমরেড মণি সিংহ -এর স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি ও স্মৃতিস্তম্ভ - দুর্গাপুর উপজেলা;
কুমুদীনি স্তম্ভ - দুর্গাপুর উপজেলা ;
সোমেশ্বরী নদী - দুর্গাপুর উপজেলা ;
ডিঙ্গাপোতা হাওর - মোহনগঞ্জ উপজেলা ;
চরহাইজদা হাওর
মগড়া নদী - মদন উপজেলা। [৫]
বিবিধ
চিত্রশালা
বিরিশিরি, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা
হাজং মাতা রাশমণির ভাস্কর্য
গাছের পাথুরে শাখা
শিলীভূত গাছের নিকটচিত্র
রিকশা, নেত্রকোনায়
মদন পৌরসভাতে মগড়া নদী র দৃশ্য
বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা
নেত্রকোনা জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক এলাকা।
বাংলাদেশে নেত্রকোনা জেল অবস্থান
স্থানাঙ্ক:
২৪°৫৩′উত্তর ৯০°৪৪′পূর্ব / ২৪.৮৮° উত্তর ৯০.
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগ ময়মনসিংহ বিভাগ
আয়তন
• মোট ২৮১০.২৮ কিমি ২ (১০৮৫.০৬ ব
জনসংখ্যা (২০১১)
• মোট ২২,২৯,৪৬৪
• ঘনত্ব ৭৯০/কিমি ২ (২১০০/বর্গমাই
স্বাক্ষরতার হার
• মোট ৩৪.৯৪%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬ )
ইতিহাস
খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে এ অঞ্চল গুপ্ত সম্রাটগণের অধীন ছিল। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গুপ্তযুগে সমুদ্রগুপ্তের অধীনস্থ এ অঞ্চলসহ পশ্চিম ময়মনসিংহ কামরূপ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে হিন্দুরাজ শশাংকের আমন্ত্রণে চৈনিক পরিব্রাজক হিউ এন সাঙ যখন কামরূপ অঞ্চলে আসেন, তখন পর্যন্ত নারায়ণ বংশীয় ব্রাহ্মণ কুমার ভাস্কর বর্মণ কর্তৃক কামরূপ রাজ্য পরিচালিত ছিল। খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে পূর্ব ময়মনসিংহের উত্তরাংশে পাহার মুল্লুকে বৈশ্যগারো ও দুর্গাগারো তাদের মনগড়া রাজত্ব পরিচালনা করতো। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ দিকে জনৈক মুসলিম শাসক পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চল আক্রমণ করে অল্প কিছুদিনের জন্য মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে জিতারা নামক একজন সন্ন্যাসী কামরূপের তৎকালীন রাজধানী ভাটী অঞ্চল আক্রমণ ও দখল করেন। সে সময় পর্যন্তও মুসলিম শাসক ও অধিবাসী স্থায়ীভাবে অত্রাঞ্চলে অবস্থান ও শাসন করতে পারেনি। খ্রিস্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে (১৪৯৩-১৫১৯) সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চল মুসলিম রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত হয়।
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ’র পুত্র নসরৎ শাহ’র শাসনামলে (১৫১৯-১৫৩২) দু'একবার বিদ্রোহ সংঘটিত হলেও বিদ্রোহীরা সফল হয়নি। সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চলেই নসরৎ শাহ’র শাসন বলবৎ ছিল। নসরৎ শাহ-র উত্তরাধিকারীরা (১৫৩৩-১৮৩৮) কিংবা তার পরবর্তী লক্ষ্মণাবতীর অন্য শাসকেরা ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপর আধিপত্য বজায় রাখতে পারেনি। ময়মনসিংহের উত্তরাংশ কোচদের পুনরাধীন হয়ে পড়ে। বাকী অংশ দিল্লীর পাঠান সুলতান শেরশাহ-র (১৫৩৯-১৫৪৫) শাসনভুক্ত হয়েছিল। তৎপুত্র সেলিম শাহ’র শাসনের সময়টি (১৫৪৫-১৫৫৩) ছিল বিদ্রোহ ও অস্থিরতায় পূর্ণ। রাজধানী দিল্লী থেকে অনেক দূরে ও কেন্দ্রীয় রাজশক্তির দূর্বলতার সুযোগে প্রধান রাজস্ব সচিব দেওয়ান সুলায়মান খাঁ (যিনি পূর্বে কালিদাস গজদানী নামে পরিচিত ছিলেন) সম্রাটের বিরুদ্ধাচরণ করেন। এতে করে দেশী ও বিদেশী রাজ্যলিপ্সুরা এতদঞ্চল দখলের প্রয়াস পায়। এর মধ্যে ভাটী অঞ্চল (পূর্ব-উত্তরাংশ) সোলায়মান খাঁ-র দখলভুক্ত ছিল। কেন্দ্রীয় শাসকের প্রেরিত সৈন্যদের হাতে সোলায়মান খাঁ নিহত হলেও তার দু’পুত্রের মধ্যে জ্যেষ্ঠ পুত্র ঈশা খাঁ খিজিরপুর থেকে ভাটী অঞ্চলে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে ঈশা খাঁ’র মৃত্যুর পর তৎপুত্র মুসা খাঁ ও আফগান সেনা খাজা উসমান খাঁ কর্তৃক অত্রাঞ্চল শাসিত ছিল। সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে (১৬০৫-১৬২৭) সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চল মোঘল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়। [১][২]
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮০ খিস্টাব্দে হওয়া নেত্রকোণা মহকুমাকে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলা করা হয়।
প্রশাসনিক বিন্যাস
নেত্রকোনা জেলা ১০টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত; এগুলো হলোঃ
আটপাড়া ,
কলমাকান্দা,
কেন্দুয়া ,
খালিয়াজুড়ি ,
দুর্গাপুর ,
নেত্রকোনা সদর ,
পূর্বধলা ,
বারহাট্টা,
মদন এবং
মোহনগঞ্জ ।
শিক্ষা
শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৪.৯%; পুরুষ ৩৭.৯%, মহিলা ৩১.৯%। কলেজ ২৮, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৩৬, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১০৮৩, মাদ্রাসা ১৬০। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: কেন্দুয়া জয়হরি পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৩২), নেত্রকোনা দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮৯), বিরিশিরি পিসিনল উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯২), বিরিশিরি মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯৯), নেত্রকোনা চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০৯), বড়ওয়ারী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১১), সান্দিকোনা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১২), আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৪), বারহাট্টা সিকেপি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৪), আশুজিয়া জে.এন.সি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (১৯১৬), পূর্বধলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৬), নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৮), এস.কে.পি.এস উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৮), ঘাগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৯), বেখৈর হাটি এন.কে. উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২২), ধর্মরায় রামধন উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩০), গোপালাশ্রম ভৈরবচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩০), মোহনগঞ্জ সরকারি পাইলট হাইস্কুল (১৯৩১), বাউসী অর্ধচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৯), বানিয়াজান সিটি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪০), কলমাকান্দা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪২), গুজিরকোনা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৬), জাহাঙ্গীরপুর তহুরা আমিন হাই স্কুল (১৯৪৬), শালদিঘা জি.জি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৫৪), কুতুবপুর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৪), খালিয়াজুরী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৭), দুর্গাপুর এন্ট্রেন্স স্কুল (১৮৭৯), তেলিগাতি বি এন এইচ কে একাডেমি (১৯০৫), উপেন্দ্র বিদ্যাপীঠ (১৯১৩-১৪), মঙ্গলসিদ্ধ এম এস জুনিয়র স্কুল (১৯২৫)।
কৃষি
প্রধান শস্য
ধান, পাট, গম
অর্থনীতি
রপ্তানী পণ্য
মাছ, চামড়া, ডিম।
যোগাযোগ
রেল পথ ৪১ মাইল
সড়ক পথপাকা সড়কঃ ৫৬৬ কিঃ মিঃ, কাচা সড়কঃ ১৬৬০ কিঃ মিঃ
নদী পথ ২০০মাইল (প্রায়)
বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব
কাহ্নপাদ ( দ্বাদশ শতক) - চর্যাপদের চুরাশিজন বৌদ্ধ মহাসিদ্ধদের একজন;
মনসুর বয়াতি (আনু. ১৮ শতক) - পল্লিকবি ও গায়ক;
জ্ঞানচন্দ্র মজুমদার (১৮৮৯ - ৩ অক্টোবর ১৯৭০ ) - ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব, অগ্নিযুগের বিপ্লবী এবং
অনুশীলন সমিতির অন্যতম শীর্ষনায়ক;
চন্দ্রকুমার দে (১৮৮৯ - ১৯৪৬ ) - লেখক ও লোকগল্প, লোকগীতি গবেষক ও সংগ্রাহক;
জালাল উদ্দিন খাঁ (১৮৯৪ - ১৯৭২) - বিশিষ্ট বাউল কবি ও গায়ক;
কমরেড মণি সিংহ (২৮ জুলাই ১৯০১ -
৩১ ডিসেম্বর ১৯৯০ ) - প্রখ্যাত বামপন্থী রাজনীতিবিদ ;
রশিমনি হাজং (১৯০৮ - ৩১ জানুয়ারি
১৯৪৬ ) - টঙ্ক আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী নেত্রী;
যাদুমনি হাজং (বিশ শতক) - টঙ্ক আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী কর্মী;
খালেকদাদ চৌধুরী (২ ফেব্রুয়ারি ১৯০৭ - ১৬ অক্টোবর ১৯৮৫) - খ্যাতিমান প্রাবন্ধিক, গল্পকার, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক;
গোলাম সামদানী কোরায়শী (৫ এপ্রিল, ১৯২৯ - ১১ অক্টোবর, ১৯৯১) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট সহিত্যিক, গবেষক ও অনুবাদক;
বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ (জন্মঃ ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩০) - প্রখ্যাত আইনবিদ ও ৬ষ্ঠ প্রধান বিচারপতি এবং দু'বার দায়িত্বপালনকারী রাষ্ট্রপতি ;
যতীন সরকার (জন্মঃ ১৯৩৬) - প্রগতিবাদী চিন্তাবিদ ও লেখক;
কর্নেল তাহের (১৪ নভেম্বর ১৯৩৮ - ২১ জুলাই ১৯৭৬) - মুক্তিযোদ্ধা, ১১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং
বামপন্থী বিপ্লবী নেতা;
কবি নির্মলেন্দু গুণ (জন্মঃ ২১ জুন ১৯৪৫) - প্রখ্যাত কবি এবং চিত্রশিল্পী;
কবি হেলাল হাফিজ (জন্মঃ ৭ অক্টোবর ১৯৪৮ ) - জনপ্রিয় আধুনিক কবি;
হুমায়ুন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ - ১৯ জুলাই ২০১২) - জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক;
মুহম্মদ জাফর ইকবাল (জন্মঃ ২৩ ডিসেম্বর ১৯৫২) - লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ;
আহসান হাবীব (কার্টুনিস্ট) - জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট, রম্য সাহিত্যিক ও একজন কমিক বুক রাইটার; [৩]
বারী সিদ্দিকী - সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বাঁশি বাদক। [৪]
চিত্তাকর্ষক স্থান
উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী -
বিরিশিরি , দুর্গাপুর উপজেলা ;
বিজয়পুরের চিনামাটির পাহাড় -
দুর্গাপুর উপজেলা ;
কমলা রাণীর দিঘী;
কমরেড মণি সিংহ -এর স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি ও স্মৃতিস্তম্ভ - দুর্গাপুর উপজেলা;
কুমুদীনি স্তম্ভ - দুর্গাপুর উপজেলা ;
সোমেশ্বরী নদী - দুর্গাপুর উপজেলা ;
ডিঙ্গাপোতা হাওর - মোহনগঞ্জ উপজেলা ;
চরহাইজদা হাওর
মগড়া নদী - মদন উপজেলা। [৫]
বিবিধ
চিত্রশালা
বিরিশিরি, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা
হাজং মাতা রাশমণির ভাস্কর্য
গাছের পাথুরে শাখা
শিলীভূত গাছের নিকটচিত্র
রিকশা, নেত্রকোনায়
মদন পৌরসভাতে মগড়া নদী র দৃশ্য
