একটি অকর্মণ্য বুড়োর গল্প
==============================
-বাবা, সবকিছু ঠিকঠাক মতো এনেছো তো??
-হ্যাঁ রে বাপ, আমার আর এমন কি আছে? যা ছিলো সবই নিয়ে এসেছি..
-এমনিতে এখানকার ফ্যাসিলিটি খুব ভালো, তোমার সমস্যা হবার কথা না...
-আমার আবার কি সমস্যা! আমাকে নিয়ে চিন্তা করিস না...তোরা ভালো থাকিস
-আচ্ছা বাবা, আমি যাই তাহলে, কেমন?
-সামনের সপ্তাহে আবার দেখা করতে আসবি তো.?
- আজব তো, আমি কি সারাদিন বসে থাকি নাকি! আমারো তো অফিস আছে, প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহে আসা সম্ভব নাকি! বললাম তো সময় পেলে আসবো। আর দেখো বাবা, ছেলে তোমাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গেছে এ নিয়ে এতো হা হুতাশ করার কিছু নেই...যা করেছি সবার ভালোর জন্যই করেছি..প্রতিদিন এমন অশান্তি আর কার ভালো লাগে?
-না রে বাপ, আমি এখানে ভালই থাকবো, তুই সাবধানে যাস...
চোখের সামান্য কয়েক ফোঁটা নোনা জলে ছেলের দামী গাড়ি চকচকে কালো রংটা ঝাপসা হয়ে গেলো...বয়স হয়ে গেছে তো তাই খালি সময় অসময় চোখের অবাধ্য জলগুলো বের হয়ে আসে চোখ থেকে....বুড়ো হওয়ার যত জ্বালা...কারো কোন কাজে আসা যায় না...খালি ঘাড়ের উপর বসে বসে খাওয়া...নাহ, ছেলে ঠিকই করেছে...কদ্দিন আর এই বুড়ো অকর্মণ্য বাপকে ঘরে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবে...
আর এইখানে সে খারাপ থাকবেনা...তার কাজই বা কি আর! খালি খাওয়া, ঘুমানো আর অতীতের কিছু স্মৃতি মনে করে সময় কাটানো...
আহ...অতীতের স্মৃতি! কত বছর আগের স্মৃতি হবে?? দশ বিশ নাকি ত্রিশ? অথচ মনে হয় এইতো সেদিনের কথা....কতো হাসি, কতো কান্না, কতো আনন্দ...অথচ আজ এসবই স্মৃতি!
স্মৃতি ভারি মজার জিনিস, জীবনকে টেনে অনেক অনেক আগের দিনগুলোতে নিয়ে আসে...
এইতো সেদিন, হ্যাঁ, সেদিনই তো! ছেলেটার ম্যাট্রিক পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকাটা...কিভাবে যে জোগাড় করতে হয়েছিলো! ধার চেয়ে চেয়ে এর ওর বাড়ি...কিন্তু ধার কেও দেয়নি, আর দিবেই বা কেনো? এরকম দিন আনে দিন খাই টাইপের মানুষকে ধার দেওয়া বোকামি না?!
তারপর...আর উপায় না দেখে দুই ব্যাগ রক্ত বিক্রি...তা হোক! ছেলেটা তো পরীক্ষা দিয়েছিলো বেশ...
কিংবা...ওইতো...ঈদের সময়? ছেলেটাকে কোনদিন দামী কোন শার্ট কিনে দেওয়া হয়নি...তাইতো সেই ঈদে যখন বন্ধুদের দেখাদেখি একটা দামী শার্টের আবদার করলো তখন নিজের ঈদ বোনাসের পুরোটা দিয়ে একটা সুন্দর দামী শার্ট কিনে দিতে হয়েছিলো ....নিজের একটা শার্ট যদিও দরকার ছিলো অবশ্য...কিন্তু ব্যাপার না! এই এক শার্ট পাঁচ বছর চলেছে যেহেতু..আরো দুই বছর অনায়াসে চালিয়ে নেওয়া যাবে..খালি একটু তালি দিতে হবে এই আর কি...এই ভেবেই ছেলের হাসি
মুখের দিতে তাকিয়ে স্বর্গসুখ অনুভব করেছিলেন...
অথবা ওইযে, ছেলের অসুখের সময়...ইশ কি জ্বর...জ্বরে একেবারে গা পুড়ে যাচ্ছিলো...সারারাত ছেলের মাথার কাছে বসে জলপট্টি দিয়ে হয়েছিলো...যা ভয় লেগেছিলো...
এমনিতেই মা মরা একটিমাত্র ছেলে...ছোটবেলা থেকে কত আদর যত্নে মানুষ করেছেন...ছেলের কিছু হলে তিনি বাঁচতেন কি করে....!
আর ওইতো....সেদিনের কথা.....
মনে করতে করতে হঠাৎ বুড়ো নিজের মনেই হেসে উঠলো...বুড়োদের এজন্যই সহ্য করা যায় না! যখন তখন, যেখানে সেখানে নিজের অজান্তেই সব কাজ ফেলে অতীতের স্মৃতি নিয়ে বিভোর হয়ে যায়....
অকর্মণ্য বুড়ো বলে কথা...!
==============================
-বাবা, সবকিছু ঠিকঠাক মতো এনেছো তো??
-হ্যাঁ রে বাপ, আমার আর এমন কি আছে? যা ছিলো সবই নিয়ে এসেছি..
-এমনিতে এখানকার ফ্যাসিলিটি খুব ভালো, তোমার সমস্যা হবার কথা না...
-আমার আবার কি সমস্যা! আমাকে নিয়ে চিন্তা করিস না...তোরা ভালো থাকিস
-আচ্ছা বাবা, আমি যাই তাহলে, কেমন?
-সামনের সপ্তাহে আবার দেখা করতে আসবি তো.?
- আজব তো, আমি কি সারাদিন বসে থাকি নাকি! আমারো তো অফিস আছে, প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহে আসা সম্ভব নাকি! বললাম তো সময় পেলে আসবো। আর দেখো বাবা, ছেলে তোমাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গেছে এ নিয়ে এতো হা হুতাশ করার কিছু নেই...যা করেছি সবার ভালোর জন্যই করেছি..প্রতিদিন এমন অশান্তি আর কার ভালো লাগে?
-না রে বাপ, আমি এখানে ভালই থাকবো, তুই সাবধানে যাস...
চোখের সামান্য কয়েক ফোঁটা নোনা জলে ছেলের দামী গাড়ি চকচকে কালো রংটা ঝাপসা হয়ে গেলো...বয়স হয়ে গেছে তো তাই খালি সময় অসময় চোখের অবাধ্য জলগুলো বের হয়ে আসে চোখ থেকে....বুড়ো হওয়ার যত জ্বালা...কারো কোন কাজে আসা যায় না...খালি ঘাড়ের উপর বসে বসে খাওয়া...নাহ, ছেলে ঠিকই করেছে...কদ্দিন আর এই বুড়ো অকর্মণ্য বাপকে ঘরে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবে...
আর এইখানে সে খারাপ থাকবেনা...তার কাজই বা কি আর! খালি খাওয়া, ঘুমানো আর অতীতের কিছু স্মৃতি মনে করে সময় কাটানো...
আহ...অতীতের স্মৃতি! কত বছর আগের স্মৃতি হবে?? দশ বিশ নাকি ত্রিশ? অথচ মনে হয় এইতো সেদিনের কথা....কতো হাসি, কতো কান্না, কতো আনন্দ...অথচ আজ এসবই স্মৃতি!
স্মৃতি ভারি মজার জিনিস, জীবনকে টেনে অনেক অনেক আগের দিনগুলোতে নিয়ে আসে...
এইতো সেদিন, হ্যাঁ, সেদিনই তো! ছেলেটার ম্যাট্রিক পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকাটা...কিভাবে যে জোগাড় করতে হয়েছিলো! ধার চেয়ে চেয়ে এর ওর বাড়ি...কিন্তু ধার কেও দেয়নি, আর দিবেই বা কেনো? এরকম দিন আনে দিন খাই টাইপের মানুষকে ধার দেওয়া বোকামি না?!
তারপর...আর উপায় না দেখে দুই ব্যাগ রক্ত বিক্রি...তা হোক! ছেলেটা তো পরীক্ষা দিয়েছিলো বেশ...
কিংবা...ওইতো...ঈদের সময়? ছেলেটাকে কোনদিন দামী কোন শার্ট কিনে দেওয়া হয়নি...তাইতো সেই ঈদে যখন বন্ধুদের দেখাদেখি একটা দামী শার্টের আবদার করলো তখন নিজের ঈদ বোনাসের পুরোটা দিয়ে একটা সুন্দর দামী শার্ট কিনে দিতে হয়েছিলো ....নিজের একটা শার্ট যদিও দরকার ছিলো অবশ্য...কিন্তু ব্যাপার না! এই এক শার্ট পাঁচ বছর চলেছে যেহেতু..আরো দুই বছর অনায়াসে চালিয়ে নেওয়া যাবে..খালি একটু তালি দিতে হবে এই আর কি...এই ভেবেই ছেলের হাসি
মুখের দিতে তাকিয়ে স্বর্গসুখ অনুভব করেছিলেন...
অথবা ওইযে, ছেলের অসুখের সময়...ইশ কি জ্বর...জ্বরে একেবারে গা পুড়ে যাচ্ছিলো...সারারাত ছেলের মাথার কাছে বসে জলপট্টি দিয়ে হয়েছিলো...যা ভয় লেগেছিলো...
এমনিতেই মা মরা একটিমাত্র ছেলে...ছোটবেলা থেকে কত আদর যত্নে মানুষ করেছেন...ছেলের কিছু হলে তিনি বাঁচতেন কি করে....!
আর ওইতো....সেদিনের কথা.....
মনে করতে করতে হঠাৎ বুড়ো নিজের মনেই হেসে উঠলো...বুড়োদের এজন্যই সহ্য করা যায় না! যখন তখন, যেখানে সেখানে নিজের অজান্তেই সব কাজ ফেলে অতীতের স্মৃতি নিয়ে বিভোর হয়ে যায়....
অকর্মণ্য বুড়ো বলে কথা...!
