Responsive Ad Slot

Hot Games

Startup

Trends

Tech

ঘুরে আসুন সাগর কন্যা কুয়াকাটা থেকে

Monday, March 14, 2016

কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-
পশ্চিমাঞ্চলের একটি সমুদ্র সৈকত ও
পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটকদের কাছে
কুয়াকাটা "সাগর কন্যা" হিসেবে
পরিচিত। ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের

সৈকত বিশিষ্ট কুয়াকাটা
বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক
সমুদ্র সৈকত। এটি বাংলাদেশের
একমাত্র সৈকত যেখান থেকে
সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই দেখা
যায়।


অবস্থান

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া
উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে
কুয়াকাটা অবস্থিত। ঢাকা থেকে
সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার,
বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার।
জনসংখ্যার উপাত্ত
২০১১ এর আদমশুমারি অনুযায়ী
কুয়াকাটার মোট জনসংখ্যা ৯,০৭৭ জন
এবং পরিবার সংখ্যা ২,০৬৫ টি।


ইতিহাস


কুয়াকাটা নামের পেছনে রয়েছে
আরকানদের এদেশে আগমনের সাথে
জড়িত ইতিহাস। 'কুয়া' শব্দটি এসেছে
'কুপ' থেকে। ধারণা করা হয় ১৮ শতকে
মুঘল শাসকদের দ্বারা বার্মা থেকে
বিতাড়িত হয়ে আরকানরা এই
অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে। তখন
এখানে সুপেয় জলের অভাব পূরণ করতে
তারা প্রচুর কুয়ো বা কুপ খনন
করেছিলেনে, সেই থেকেই এই
অঞ্চলের নাম হয়ে যায় কুয়াকাটা!



দর্শনীয় স্থান


এর সন্নিকটবর্তী আরও যেসব দর্শনীয়
স্থান রয়েছে সেগুলো হলঃ

ফাতরার বন - সমুদ্রসৈকতের পশ্চিম
দিকের সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বন, যা
'দ্বিতীয় সুন্দরবন' হিসেবে পরিচিতি
লাভ করেছে;


কুয়াটারা 'কুয়া' - কুয়াকাটা
সমুদ্রসৈকতের কাছে রাখাইন পল্লী
কেরানীপাড়ার শুরুতেই একটা বৌদ্ধ
মন্দিরের কাছে রয়েছে একটি
প্রাচীন কুপ;


সীমা বৌদ্ধ মন্দির - প্রাচীন
কুয়াটির সামনেই রয়েছে প্রাচীন
সীমা বৌদ্ধ মন্দির, যাতে রয়েছে
প্রায় সাঁইত্রিশ মন ওজনের অষ্ট ধাতুর
তৈরি ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মূর্তি;


কেরানিপাড়া - সীমা বৌদ্ধ
মন্দিরের সামনে থেকেই শুরু হয়েছে
রাখাইন আদিবাসীদের পল্লী
কেরানিপাড়া;


আলীপুর বন্দর - কুয়াকাটা থেকে
প্রায় চার কিলোমিটার উত্তরে
রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড়
মৎস্য ব্যবসা কেন্দ্র আলীপুর;


মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির -
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায়
আট কিলোমিটার পূর্বে রাখাইন
আদিবাসীদের আবাস্থল
মিশ্রিপাড়ায় রয়েছে একটি বৌদ্ধ
মন্দির, যাতে রয়েছে উপমহাদেশের
সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মূর্তি;


গঙ্গামতির জঙ্গল - কুয়াকাটা সমুদ্র
সৈকতের পূব দিকে গঙ্গামতির
খালের পাশে গঙ্গামতি বা
গজমতির জঙ্গল।


ঢাকা থেকে কিভাবে যাবেনঃ

কুয়াকাটা আপনি দুই পথে যেতে
পারেন । নদী পথ আর সড়ক পথ ।
নদী পথে যেতে হলে প্রথমেই
আপনাকে যেতে হবে ঢাকা সদর ঘাট ।
সেখান থেকে প্রতি দিন পটুয়াখালীর
উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ৪ টি
অত্যাধুনিক লঞ্চ । তবে লঞ্চে যেতে
চাইলে অন্তত একদিন আগেই লঞ্চের
টিকিত কেটে রাখা ভাল । সিঙ্গেল
কেবিন ভাড়া লঞ্চভেদে ৯০০ - ১১০০
টাকা , ডাবল কেবিন ১৮০০ আর
ডিলাক্স (ফ্যামিলি) ২০০০ টাকা । এ
ছাড়াও আছে লঞ্চের ডেক যার ভাড়া
২০০ টাকা । আপনি চাইলে লঞ্চেই
রাতের খাবার অর্ডার করতে পারেন
অথবা নিজের বাসা থেকে নিয়ে
যেতে পারেন । লঞ্চের ভ্রমন খুব ই
উপভোগ্য । আমি বাজি ধরে বলতে
পারি লঞ্চের প্রথম ভ্রমন হলে আপনি
আপ্লুত হয়ে পরবেন । লঞ্চ গুলো ঢাকা
থেকে ছাড়ে বিকেল ৪ টা থেকে
সন্ধ্যা ৬ টার ভেতর । সকাল ৬ টা বা ৭
টা নাগাদ পটুয়াখালী পৌঁছুবেন ।
সকাল ৬ টা থেকেই প্রতি ১ ঘণ্টা পর পর
কুয়াকাটার বাস ছেড়ে যায়
পটুয়াখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে । লঞ্চ
ঘাট থেকে বাস স্ট্যান্ড এর ভাড়া ২৫ -
৩০ টাকা ।

সড়ক পথে যেতে হলে আপনাকে যেতে
হবে গাবতলি বাস স্ট্যান্ড । এসি , নন-
এসি দুই রকম বাস সার্ভিস ই পাবেন । নন
এসি ৫০০ টাকা আর এসি ৬৫০-৭০০ টাকা
। সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত ৪ টা
বাস ছেড়ে যায় ঢাকা থেকে । আর
নাইট কোচ এর সময় শুরু সন্ধ্যা ৭ টা থেকে
রাত ১০:৩০ পর্যন্ত । আর গাবতলি থেকে
দুই একটা বাস সরাসরি কুয়াকাটার
উদ্দেশ্যে ও ছেড়ে যায় তবে সেগুলোর
সার্ভিস তেমন ভাল নয় । পটুয়াখালী
থেকে কুয়াকাটার ভাড়া জন প্রতি
১০০ টাকা ।(ভাড়া বাড়তে পারে)

** একটা জিনিশ অবশ্যই মাথায় রাখবেন
, তা হল সন্ধ্যা ৫ টার পর আর কোনো
বাস পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা
যায় না ।


কুয়াকাটা কোথায় থাকবেনঃ
কুয়াকাটা থাকার জন্য অনেক হোটেল
রয়েছে । ৩ স্টার মানের হোটেল আছে
দুটো । তাছাড়া আছে সরকারি
ডাকবাংলো । এ ছাড়া মধ্যম মানের
অনেক ভাল হোটেল রয়েছে । সিঙ্গেল
বেড এর ভাড়া এইসব হোটেল ৩০০
টাকার মত । আর ৬-৭ জন থাকার জন্য ৪
বেডের রুম নিতে পারেন যার ভাড়া
পরবে ৮০০ টাকার মত । সব হোটেল গুলোই
সৈকতের খুব কাছে ।
 নীচের কিছু মান সম্পন্ন
হোটেলের ঠিকানা ও ভাড়া
দেয়া হলো। আশা করি সবার
কাজে লাগবে।
ভাড়ার ব্যাপারে একটা কথা।
হোটেলে গুলোর পাবলিশড রেট
এখানে দেয়া হলো তবে
কুয়াকাটাতে বছরভর ৪০-৫০%
ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। তাই
অবশ্যই হোটেল নেবার সময়
দরদাম করে নিবেন।

১. হলিডে হোমস (পর্যটন
করপোরেশন)
কুয়াকাটা
ফোন : ০১৭১৫-০০১১৪৮৩
ভাড়া :কুয়াকাটা
নন এসি টুইন : ১১০০/-
ইকোনমি : ৮০০/-


২. ইয়োথ ইন (পর্যটন করপোরেশন)
কুয়াকাটা
ফোন : ০৪৪২৮-৫৬২০৭
নন এসি টুইন : ১৫০০/-
এসি টুইন : ২৫০০/-


৩. হোটেল স্কাই প্যালেস,
পর্যটন এরিয়া, কুয়াকাটা
ফোন : ০১৭২৭-৫০৭৪৭৯
ভাড়া :
নন এসি কাপল : ১২০০/-
নন এসি টুইন : ১৪০০/-


৪. হোটেল বনানী প্যালেস,
পর্যটন এরিয়া, কুয়াকাটা
ফোন : ০১৭১-৩৬৭৪১৯২
ভাড়া :
নন এসি টুইন/কাপল : ১২৫০/-
(নীচতলা), ১৬৫০/- (উপরের তলা)
ডরমেটরী : ৪০০০/- (৮ বেড)


৫. হোটেল নীলাঞ্জনা
রাখাইন মার্কেট, কুয়াকাটা
ফোন : ০১৭১২-৯২৭৯০৪
ভাড়া :
নন এসি সিঙ্গেল : ৮৫০/-
নন এসি টুইন : ১৪৫০/-


৬. বিশ্বাস সি প্যালেস হোটেল
বেড়ি বাধ, কুয়াকাটা
ফোন : ০১৭৩-০০৯৩৩৫৬
ভাড়া :
নন এসি টুইন : ১৮০০/-
৩ বেডেড রুম : ২০০০/-


৭. সাগর কণ্যা রিসোর্ট লি:
পশ্চিম কুয়াকাটা, কুয়াকাটা
ফোন : ০১৭১১-১৮১৭৯৮
ভাড়া :
নন এসি কাপল : ১২০০/- (নীচতলা),
১৫০০/- (উপরের তলা)
নন এস টুইন : ১৮০০/-


৮. হোটেল কুয়াকাটা ইন
সদর রোড, কুয়াকাটা
ফোন : ০১৭৫-০০০৮১৭৭
ভাড়া :
ইকোনমি টুইন/কাপল : ১৫০০/-
ইকোনমি ফ্যামিলি রুম : ১৮৫০/- (১
ডাবল, ১ সিঙ্গেল)


৯. কিংস হোটেল,
সাগর পাড়, কুয়াকাটা
ফোন : ০১৭১৩-২৭৭৬৩০
ভাড়া :
ইকোনমি ডাবল : ৬০০/-
নন এসি ডিলাক্স : ৮০০/-


কোথায় খাবেনঃ

খাবার জন্য কুয়াকাটাতে অনেক
রেস্তোরা রয়েছে , তবে অর্ডার
দেওয়ার আগে অবশ্যই দামটা জেনে
নেবেন ।


কুয়াকাটা গেলে যা দেখে আসতে
কখনই ভুলবেন নাঃ

কুয়াকাটাতে দেখার মত অনেক কিছুই
রয়েছে । সৈকতের কাছেই রয়েছে
একটা বুদ্ধ মন্দির যা কিনা আপনার মন
কেড়ে নেবে। এই বুদ্ধ মন্দিরের পাশেই
রয়েছে কুয়াকাটার সেই বিখ্যাত
কুয়াটি। পাশেই আছে রাখাইন
মার্কেট । কেনা কাটা যা করার এখান
থেকেই করতে পারেন । এখানে রয়েছ
অসম্ভব সুন্দর সব তাতের কাজ । আর
বার্মিজ আঁচারের পশরা । সৈকত থেকে
৬ কিমি দূরে মিছরি পাড়াতে রয়েছে
৩ তলা সমপরিমাণ উচ্চতার আরেক বুদ্ধ
মূর্তি । সৈকতের ঝাউ বন থেকে কিছু
দূরেই রয়েছে কুয়াকাটা ইকো পার্ক । খুব
ই নয়নাভিরাম পার্ক । এছাড়া
কুয়াকাটা থেকে ট্রলারে করে
সাগরের মাঝখান থেকে ঘুরে আসতে
পারেন কিছু সময়ের জন্য সাথে দুধের
সাধ ঘোলে মেটানোর মত দেখে
আসতে পারবেন সুন্দরবনের কিছু অংশ ।
সূর্য উদয় হল সাগর পাড়ের আরেক সৌন্দর্য
। যারা কুয়াকাটা আসেন তারা কেউ
ই এই জিনিশ টা মিস করেন না । সূর্য উদয়
দেখতে হলে আপনাকে খুব সকালে ঘুম
থেকে উঠতে হবে এবং যেতে হবে
সৈকত থেকে কিছুটা দূরে কাউয়ার চর
নামক জায়গায় । যেতে পারেন মোটর
সাইকেলে করে । মোটর সাইকেল পাওয়া যাবে আপনার হোটেলের আশে পাশেই অথবা হোটেল বয়কে বললেই সে সব ব্যবস্থা করে দিবে।সূর্য উদয় দেখার দৃশ্য
যে একবার দেখেছে সে কখনো ভুলতে
পারবে না । এছাড়া কাউয়ার চরে
দেখতে পাবেন লাল কাঁকড়ার
ছুটোছুটি । কুয়াকাটা তে রয়েছে
জেলে পল্লী । সৈকতের পশ্চিম দিকে
। চাইলে দেখে আসতে পারেন । আর
সমুদ্রের পানি যদি গায়ে লাগাতে
চান , তাহলে বিনা দ্বিধায় নেমে
পড়তে পারেন সাগরের পানিতে ।
এখানে কক্সবাজারের মত চোরা
বালি টাইপ কিছু নেই । আর কোনো
চোরা খাদ ও নেই । সৈকতে যারা
বাইক চালাতে চান তাদের জন্য ও
আছে সুখবর । কিলোমিটার হিসেবে
বাইক ভাড়া পাওয়া যায় । প্রতি
কিলো ১০ টাকা । সব শেষে
প্রিয়জনের সাথে এক মনে দেখে
নেবেন সূর্য অস্তের সেই হৃদয় ছুয়ে
দেওয়া দৃশ্য । কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের
সবচেয়ে বড় সুবিধা হল নির্জনতা । ঢেউ
এর গর্জন , তীরে আছড়ে পরা আপনাকে
অন্ন জগতে নিয়ে যাবে । সাগরের
সাথে একাত্ম হয়ার এমন সুযোগ কখনো
হারাবেন না ।

Latest